October 25, 2021, 2:09 pm
তাঁজাখবর
বাগমারায় এক গৃহবধূ নির্যাতনের শিকার বগুড়া সদরের লাহিড়ীপাড়ায় নিহত সিএনজি চালক জাহেরের দাফন শেষে সিএনজি চালকদের মানববন্ধন সাংবাদিক নাসির উদ্দীন বালীর মৃত্যুতে শোক সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত প্রয়াণ দিবসে কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে বগুড়ায় আলোচনা চৌহালীতে খাষপুকুরিয়ার ইউপি নির্বাচনে নৌকা’র প্রতীক প্রত্যাশী মাসুম সিকদার আদমদীঘিতে রক্তদহ বিলে অভিযানঃ ২ হাজার মিটার ভাদাই জাল জব্দ সান্তাহারে ট্রেন থেকে চোলাই মদসহ গ্রেপ্তার ১ কাজিপুরে আওয়ামীলীগের উদ্যোগে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল দক্ষিণ বঙ্গের রাজনৈতিক অভিভাবক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র হাত ধরে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নন্দীগ্রামে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার-৬

বগুড়ার শেরপুরে অবাধে কাটছে ফসলি জমি ,ইট ভাটায় মাটির পাহাড়!

সংবাদদাতার নাম:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২০
  • 39 দেখা হয়েছে:

শেরপুর(বগুড়া)থেকে

বেপরোয়া মাটি ব্যবসায়ীরা, মানছেনা কোন সরকারি বিধি নিষেধ, প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে একাধিক খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) বা ভ্যাকু মেশিন, ও ড্রাম ট্রাক দিয়ে শত শত বিঘা ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে উর্বরতা হারিয়ে অনাবাদি হয়ে পড়ছে আবাদি জমি। কমতে শুরু করবে ফসলের উৎপাদনও।
ইটভাটার মালিকরা ও কতিপয় মাটি ব্যবসায়ীরা কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে দেদারসে খননযন্ত্র দিয়ে এসব ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। ফলে উজাড় হচ্ছে আবাদী জমি। আর ইটভাটায় গড়ে উঠছে মাটির পাহাড়! একাধিক অভিযোগ থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন।
এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারমিন আক্তার জানান, মাটি কাটার মেশিন (ভ্যাকু) বসিয়ে জমির গভীর থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। মাটির উপরিভাগের ১০-১৫ ইঞ্চির মধ্যে উর্বরতা শক্তি থাকে। তাই এসব মাটি খুঁড়ে বিক্রি করার ফলে তা পুনরো আদলে ফিরে আসতে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। আর বারবার তা খোঁড়া হলে এসব জমি ফসল উৎপাদনে স্থায়ীভাবে একেবারে অক্ষম হয়ে পড়তে পারে।
সরেজমিনে শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঠ থেকে আমন ধান ওঠার পরপরই ফসলি জমির মাটি বিক্রি শুরু হয়। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে সুঘাটের চোমরপাথালিয়া খেয়াঘাটের পাশে বাঙালী নদীর চরের মাটি, সীমাবাড়ি ইউনিয়নের সদর হাসড়ার গ্রামের ৩টি পয়েন্টে, ধুনকুণ্ঠি , ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা, বিশালপুর ইউনিয়নের পানিসারা, বিরাকৈর, বামিহাল, নাইশিমুল, ভাদাইকুড়ী চুরকুটা, উদগ্রাম, মির্জাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াবালা, সাগরপুর, মাকড়খোলা, তালতা, আয়রা-ভায়রা, পাচআনা, হাতিগাড়া স্কুল এলাকা, কুসুম্বী ইউনিয়নের শেওলাগাড়ি, আলতাদিঘী, গাড়িদহের চন্ডিজান, সহ বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক ভেকু মেশিন দিয়ে সরিষা খেত ও ধানী জমির মাটি প্রায় ৬-৭ ফুট গভীর করে কেটে শত শত ড্রাম ট্রাক, ট্রাক ও ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায়।
এদিকে অবৈধভাবে মাটি কাটা নিয় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে মাটি কাটতে বাধা দিতে গেলে উল্টো ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন হুমকি-ধামকীও দিয়ে আসছে। অপরদিকে এসব জমি থেকে মাটি কাটার ফলে স্তর নেমে যাওয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি কমতে শুরু করলেও এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সতর্ক ও প্রচারনা করা হচ্ছে না।
সিন্ডিকেট মাটির ব্যবসায়ীর চক্রের বেপরোয়া প্রভাবে জমির মালিকরা বাধ্য হয়েই ইটভাটার মালিকদের কাছে মাটি বিক্রি করছেন। এ ছাড়া মাটি ইটভাটায় নেওয়ার জন্য কোনো রাস্তা না থাকায় পার্শ্ববর্তী জমির ওপর দিয়েই ট্রাক চালিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব কারণে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন জমি। আবার অনেক মাটি ব্যবসায়ীর মাটি ফেলানোর ফলে বিনষ্ট হচ্ছে বীজতলা।
এদিকে মাটি ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য ভবানীপুর ইউনিয়নের খর্দবগুড়ার জহুরুল ইসলাম, মির্জাপুরের আব্দুল মজিদ, পানিসারার আব্দুল খালেক, সরোয়ার রহমান ছেরানসহ একাধিকরা বলেন, আবাদী জমির ফসলও দরকার, অন্যদিকে অবকাঠামো উন্নয়নে ইট তৈরীও প্রয়োজন রয়েছে। তবে ইটভাটার মালিকদের কাছে মাটি বিক্রয় করা হচ্ছে। তাছাড়া এসব বিষয়ে খবর নিয়ে কোন লাভ নেই ভাই? আপনাদের সিনিয়র কয়েকজন গণমাধ্যমকর্রীরাই তো আমাদের সাথে রয়েছে? আপনারা তাদের সাথে কথা বলেন! প্রশাসনতো ম্যানেজ করাই রয়েছে।
এদিকে মাটি ব্যবসায়ীদের অবৈধ কর্মকান্ডে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানায়, মাটি বিক্রির সিন্ডিকেট চক্রটি এতই প্রভাবশালী যে তাদের ভয়ে জমির মালিকরা কিছু বলতে সাহস পান না। বাধ্য হয়ে ওই প্রভাবশালীদের নিকট জমির মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
তবে মাটি কাটা নিয়ে শেরপুর উপজেলার সদর হাসড়া গ্রামের জহুরুল ইসলাম, সোহেলরানা, সিদ্দিক হোসেন, ইব্রাহিম হোসেন সহ একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, ইটভাটায় মাটি সরবরাহের জন্য একশ্রেণির সিন্ডিকেট চক্র গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের মাটি বিক্রি করতে উৎসাহ জোগায়ে স্বল্পমূল্যে উপরিভাগের এসব মাটি কেটে কিনে নিচ্ছে এবং আবাদি জমি এমনভাবে গভীরভাবে খুঁড়ছে যাতে করে ওই জমিতে আর কোন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব নয়।
এদিকে শেরপুর উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ ভাবে দুই তিন ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। এ উপজেলাতেই বৈধ-অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় ১৭টি ইটভাটা রয়েছে। কোন সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এসব ইটভাটায় তৈরী হচ্ছে ইট এমন অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ নেয়া হচ্ছে কার্যকরী পদক্ষেপ।
এ ব্যাপারে উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সরোয়ার রহমান মিন্টু বলেন, আমাদের শেরপুর উপজেলা ১৭টি ইটভাটা রয়েছে। ইট বানাতে মাটিতো লাগবেই, তবে পুকুর সংস্কার বা খননের নামে কৃষক লাভের আশায় মাটি বিক্রি করছে। আমাদের কিছু করার নেই। তবে অনেক ইটভাটার মালিকরা তাদের নিজস্ব জমি থেকেই মাটি কেটে ইট বানাচ্ছে।
এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লিয়াকত আলী সেখ জানান, বিভিন্ন জায়গায় অবাদি জমিতে মাটি কাটার অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যারা আবাদি জমিতে মাটি কাটছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। © All rights reserved © 2020 ABCBanglaNews24
Theme By bogranewslive
themesba-lates1749691102