May 23, 2022, 12:02 pm
তাঁজাখবর
শাজাহানপুরে আড়িয়া ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত শাজাহানপুরে কুখ্যাত ফেনসিডিল ব্যবসায়ী সোহেল গ্রেফতার শাজাহানপুরে এক মণ ধানের দামে মিলছে না একজন শ্রমিক  বগুড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে  ঝরে পড়লো দুইটি তরতাজা প্রাণ শাজাহানপুরে সারা মনি’র জন্মদিনে দোয়া দেশের মানুষের মুক্তির জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তির বিকল্প নেই -আজাদ সাংবাদিক ও প্রভাষক নাহিদ আল মালেকের এলএলবি ডিগ্রি লাভ বগুড়ায় বিভাগীয় সাংস্কৃতিক দক্ষতা ও প্রশিক্ষন কর্মশালা সম্পন্ন শাজাহানপুরে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন শাজাহানপুরে সৎ বাবার সঙ্গে মায়ের তালাকের কারণে শিশু সামিউলকে হত্যা

এবার লাভ নয়, চালানের আশায় খামারিরা

সংবাদদাতার নাম:
  • প্রকাশিত: শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২০
  • 106 দেখা হয়েছে:

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

জমির আলী, দীর্ঘদিন ঢাকার গাবতলী হাটেই গরুর ব্যবসা করেন। তিনি এখান থেকে গরু কিনে এখানেই বিক্রি করেন। টিভিতে দেশের বিভিন্ন স্থানের গরুর হাট দেখে তার বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন হাটে গরুর আমদানি দেখে মনে হচ্ছে, এবার মানুষ আর কিছু করেনি, শুধুই গরুই লালন-পালন করেছে। এত গরু আমার জীবনে আমি দেখিনি।

জমির আলী বলেন, ‘মনে হচ্ছে এবার কোরবানির হাট ভালো জমবে না। কোরবানির সংখ্যাও অনেক কম হবে। গ্রামগঞ্জের মানুষ এবার গরু কিনছে না। মানুষের অবস্থা খারাপ। এর আগে কিছু গরু কিনছিলাম।আর গরু কিনব কিনা বাজার বুঝতে পারছি না। গত বছর ২ লাখ টাকা লস করেছি। এবারও লসের ভাগেই পড়ছি। গরু কিনে লাভ করতে পারছি না।

করোনার মধ্যেই ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে গরু উঠাতে শুরু করেছেন ব্যাপারী-খামারিরা। ঢাকার গাবতলীর পশুর হাটসহ রাজধানীতে যে কয়টি হাট অনুমোদন পেয়েছে সেগুলোতেও ৫-৬ দিন পরেই পশু উঠতে শুরু করবে। ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাবতলীর হাটে পশু আসতে শুরু করেছে এবং সেখানে বেচাকেনাও হচ্ছে।

গাবতলী ও দেশের বিভিন্ন হাটে পশু ব্যাপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাজার হাজার পশু উঠছে হাটে, কিন্তু ক্রেতা নেই। এ পর্যন্ত যেখানে যেখানে হাট শুরু হয়েছে, সেখানে শুধু পশু বিক্রেতারাই আছেন। এবার ব্যাপারী-খামারি সবার একটাই কথা, এবার লাভ দরকার নেই, চালান উঠেলেই তারা বেঁচে যাবেন, সেই আশাতেই আছেন।

নরসিংদীর বেলাবো পশুর হাটে শুক্রবার (১৭ জুলাই) ঘুরে দেখা গেছে, পুরো হাট গরু দিয়ে ঠাসা। ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা ১০ গুণ বেশি। এ হাটে শিবপুর থেকে ১০টি গরু নিয়ে এসেছেন আনোয়ার ব্যাপারী। সকাল ১০টায় বাজারে উপস্থিত হয়েছেন, বেলা ৪টা পর্যন্ত বিক্রি করতে পেরেছেন ২টি গরু। তাও সেগুলো প্রায় কেনা দামেই।

আনোয়ার বলেন, ‘এই সপ্তাহে পুঠিয়া, হাতির দিয়া পশুর হাটেও গিয়েছি। এবার কোরবানির হাটে ব্যবসা হবে না, এটা বোঝা গেছে। ২০ বছরের অভিজ্ঞতায় মনে হচ্ছে, এবার চালান রক্ষা করাই কঠিন হবে।’

কিশোরগঞ্জ থেকে ১২টি ষাঁড় নিয়ে নরসিংদীর শিবপুরের পুঠিয়া পশুর হাটে এসেছেন মান্নান। এগুলো তার খামারের গরু। সারা বছর ধরে খাইয়ে, যত্ন করে বড় করেছেন কিছু টাকা লাভ করবেন বলে। কিন্তু এবার হাটের কোনো গতি বুঝতে পারছেন না তিনি। তার ধারণা, গো-খাদ্যের যে দাম এবং এদের পেছনে যে পরিশ্রম, এবার সবই বৃথা যাবে।

তিনি বলেন, ‘মাংসের দরে (২০ হাজার টাকা মণ) গরু বিক্রি করলে লাভ হবে না। যারা মাংসের গরু তৈরি করে তারা আমাদের মতো এত খরচ করে খাওয়ায় না। দেশের যে অবস্থা তাতে চালানটা ঘরে নিতে পারলেই বাঁচি।’

সিরাজগঞ্জ থেকে ৭টি গরু নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে গাবতলী হাটে এসেছিলেন আমিনুল ইসলাম নামের এক গরু ব্যাপারী। তিনি বলেন, ‘১০টায় হাটে এসে পৌঁছেছি, বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোনো গ্রাহক নেই। হাটে এসে শুনলাম, আমার আগে যারা গ্রাম থেকে এসেছিলেন তারা ৫-৬ দিন থেকে লস দিয়ে গরু বিক্রি করে চলে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এবার গরুর হাট জমবে না। এটা এখন থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছে। কারণ প্রতিবার এই সময় গাবতলী গরুর হাট ভরে যায়। এবার এখন পর্যন্ত মূল হাটের চার ভাগের এক ভাগও ভরেনি। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যে সব ব্যাপারীরা গরু নিয়ে আসেন, তারা অনেকেই করোনা ভাইরাসের কারণে গরুই কেনেননি। তাই আসছি যখন আর ফিরে যাব না। চালান ওঠার মতো দাম পেলেই বিক্রি করে বাড়ি চলে যাব।’

কেরানীগঞ্জের হযরতপুর পশুর হাটে মানিকগঞ্জ থেকে ৫টি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন মানিক। এ গরুগুলো তার খামারে লালন-পালন করেছেন। সারা বছর কোরবানির আশায় থাকলেও হাটে এসে চিত্র দেখে তিনি হতাশ। দুই হাট ঘুরেছেন তিনি। আরও কয়েকটি হাটের বাজার দরের খোঁজ খবরও নিয়েছেন।

গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন হাটের খবরাখবর নিয়ে তিনি বলছেন, ‘এবার কপালে লাভ জুটবে না। গরুগুলো সারা বছর পুষতে যে খরচ হয়েছে, সেটা ওঠাতে পারলেই গরু বিক্রি করে চলে যাব। গত বছরও লস হয়েছে, এবার চালান পেলেই খুশি।’ তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘গরু পোষা এই বারই শেষ, আর গরু পুষব না।’

কুষ্টিয়া থেকে ১১টি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছেন রকি নামের এক গরু ব্যাপারী। তিনি বলছেন, ‘গ্রামেও এখন গরু সস্তা, নেয়ার লোক নেই’। যে গরুগুলো তিনি এনেছেন গত বছর এই মাপের গরু তিনি ৬০-৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এবার ৪৫-৪৮ হাজারের ওপর দাম ওঠেনি। এই দামে গরু বিক্রি করলে লস হবে। তবে ভাবছি, চালানটা তোলার জন্য। চালান হাতে এলেই গরু বিক্রি করে বাড়ি চলে যাব।’

চুয়াডাঙ্গা থেকে গাবতলীর হাটে ১২টি গরু নিয়ে আসেন আলম নামের এক খামারি। নিজের খামারের গরু নিয়ে প্রতিবছরই তিনি গাবতলী হাটে আসেন। তিনি বলেন, ‘এবার গরু নিয়ে এসে কি ভুল করলাম? দু’দিন হয়ে গেল একটি গরুও বিক্রি করতে পারলাম না। গত বছর এমন সময়ে নিজের খামারের ১৫টি গরু বিক্রি করে আবার বাড়ি গিয়ে বড় ভাইয়ের খামারের ১০টি গরু নিয়ে এসে বিক্রি করেছি। লাভ ভালোই হয়েছিল। এবার হাটের হাব-ভাব ভালো লাগছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্যান্য বছর তিন মাস আগে থেকেই বাড়ি বাড়ি ঘুরে ব্যাপারীরা গরু কিনেছেন। এবার একটা ব্যাপারীও দেখা যায়নি। করোনা ভাইরাস নিয়ে সবাই আতঙ্কের মধ্যে আছেন। গত দুই বছরে লাভ করেছি।’ এবার দেশের যে অবস্থা তাতে চালানটা তুলতে পারলেই খুশি এ খামারি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। © All rights reserved © 2020 ABCBanglaNews24
Theme By bogranewslive
themesba-lates1749691102