December 2, 2021, 7:14 pm

ঘরে প্রথম স্ত্রী, গোপনে সারার সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে করেন ত্ব-হা

সংবাদদাতার নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, জুন ২০, ২০২১
  • 66 দেখা হয়েছে:

স্টাফ করেপসন্ডেন্ট

আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি তার উধাও হওয়ার পর সামনে এসেছে। তবে তার উধাও হওয়ার আগে এটি পরিবার কিংবা স্বজনদের কেউই জানতো না। গত ১০ জুন ত্ব-হা রংপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে নিখোঁজ হওয়ার দাবি প্রথমে সামনে আনের তার স্ত্রী পরিচয়ে সাবিকুন্নাহার সারা। তখনও জানা যায়নি তিনি ত্ব-হার দ্বিতীয় স্ত্রী।

পরে সারা স্বামীকে উদ্ধারের আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর চিঠি দেন, সংবাদ সম্মেলন করেন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেন। এরপরই সারার পরিচয় পেয়ে ত্ব-হার পরিবার চমকে উঠেন। যারা এতদিন ত্ব-হার দ্বিতীয় স্ত্রীর খবর জানতেই না।

ত্ব-হার মা আজেদা বেগম গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বিয়ের খবর আমি কিছুদিন পর পাই। আমি শুনেছি ত্ব-হাকে ট্র্যাপে ফেলানো হয়েছে। খুব মানসিক অত্যাচার করতো, ডিস্টার্ব করতো। খুবই অশান্তিতে ছিল ত্ব-হা।’

ত্ব-হার মা ও মামা একই বাড়িতে থাকেন। মামা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ত্ব-হার বিয়ের খবর জানতাম না। তার নিখোঁজ হওয়ার পর মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি, সে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। এর বেশি কিছু জানিনা।’

একই কথা বলেন ত্ব-হার প্রথম স্ত্রী আবিদা নূরের বাবা আজহারুল ইসলামও। তিনি বলেন, ‘নিখোঁজের ঘটনার পর ফেসবুকে আর মানুষের মুখে শুনছি, জামাই ঢাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। এর আগে আমি জানতামই না। আমার মেয়ে খুব পরহেজগার। কারও সঙ্গে কথা বলে না।’

আবিদা নূর স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানতেন কিনা, জানতে চাইলে আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মেয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। সে বলেছে, পরে বিষয়টি আমাকে বলবে।’

আবিদার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল ত্ব-হার। দেড় মাস আগে আবিদা সন্তানের মা হয়েছেন। এর আগে রংপুরের শালবনের চেয়ারম্যানের গলিতে স্বামী-স্ত্রী ভাড়া থাকতেন। তবে আবিদা এখন আবহওয়া অফিসের কাছে বাবার বাড়িতে আছেন।

নগরীর সেন্ট্রাল রোডে আলহে হাদিস মসজিদের পাশে পারিবারিক বাসভবনে থাকেন ত্ব-হার মা। গেল শুক্রবার (১৮ জুন) রাতে আদালত থেকে ছাড়া পেয়ে মায়ের কাছেই উঠেন ত্ব-হা।

নিখোঁজ হওয়ার গুঞ্জনের ৮ দিন পর গত ১৮ জুন ত্ব-হার খোঁজ মেলে। তিনি প্রথম স্ত্রীর বাবার বাড়ি যাওয়ার পথে পথে স্থানীয়রা তাকে দেখে পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ গিয়ে ত্ব-হাকে নিয়ে আসে। ত্ব-হার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ব্যক্তিগত কারণে তিনি গাইবান্ধার একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। সেই বাড়িটি ত্ব-হার বাল্যবন্ধু সিয়াম ইবনে শরীফের বাবার। সিয়ামের বাবা বছর দুই আগে মারা গেছেন। সিয়াম রংপুরে চাকুরি করেন। তার বোনের বিয়ে হয়েছে ঢাকায়। গাইবান্ধার ওই বাড়িতে সিয়ামের মা নিশাত নাহার একাই থাকেন।

নিশাত নাহার জানান, ত্ব-হা আগে তাদের বাসায় একা থাকতো। এবার তিন সঙ্গীসহ এসে বলে, দুই ব্যক্তি তাদের ফলো করছে। তাই তারা এখানে থাকবেন। তার এ কথায় সন্দেহ হয়নি নিশাত নাহারের। এছাড়া বাসার টেলিভিশন নষ্ট আর তিনি স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না বলে ত্ব-হাকে নিয়ে বাইরে কী হচ্ছে, সেটি তিনি আঁচ করতে পারেননি। গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) রাতে মেয়ের ফোন কল পেয়ে ঘটনা জানতে পেরে ত্ব-হাতে বাসায় ফিরে যেতে বলেন নিশাত নাহার।

পরদিন শুক্রবার (১৮ জুন) প্রথম স্ত্রী আবিদার বাসায় ফিরে যান ত্ব-হা। দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সারার সঙ্গে ওই রাতেই যোগাযোগ হয় তার।সারা বক্তব্য, আদালতে আইনজীবীর দুই স্ত্রীর মধ্যে ‘ঝামেলার’ প্রসঙ্গ তোলা, মায়ের জিম্মায় ত্ব-হাকে বাড়ি পাঠানোর পর এটা স্পষ্ট যে, ত্রিভূজ সম্পর্কের সমীকরণ কিছুটা জটির।

এদিকে ত্ব-হার আইনজীবী সোলায়মান আহমেদ সিদ্দিক বাবু জানিয়েছেন, ত্ব-হা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, তিনি পারিবারিক অশান্তির কারণে গাইবান্ধায় নিখোঁজ নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার ত্ব-হা প্রথম স্ত্রী আবিদা নূরের বাবার বাড়িতে আসেন। তার সঙ্গীরাই তার সঙ্গে ছিল। দুই স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা থাকায় তাকে মায়ের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

ত্ব-হার বরাত দিয়ে তার মায়ের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তদন্ত কর্মকর্তা মজনু মিয়া জানান, তিন মাস আগে ত্ব-হা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তবে কোথায় কীভাবে বিয়ে হয়েছে, সেটি জানা নেই।

মজনু মিয়া আরও জানান, বিয়ের কিছুদিন আগে ঢাকায় একটি আলোচনা সভায় সারার সঙ্গে ত্ব-হার পরিচয় হয়। এরপর তারা বিয়ে করেন। সারা রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের ‘এ’ ব্লকের একটি বাসায় মেয়েদের একটি মাদরাসা পরিচালনা করেন। থাকতেনও মাদরাসার পাশেই একটি বাসায়। তবে এখন তিনি সে বাসায় থাকছেন না।

ত্ব-হার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে সারার কোনও বক্তব্য এখনও মেলেনি।

উল্লেখ্য, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি একাধিক বিয়ে করতে চাইরে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের মধ্যে শেষ স্ত্রীর অনুমতি লাগবে। ওই ব্যক্তিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের কাছে আরেকটি বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে।

যেসব শর্তে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়- ১. বর্তমান স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব, ২. শারীরিক মারাত্মক দুর্বলতা, ৩. দাম্পত্য জীবন-সম্পর্কিত শারীরিক অযোগ্যতা, ৪. দাম্পত্য অধিকার পুনর্বহালের জন্য আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোনও আদেশ বা ডিক্রি বর্জন ও ৫. মানসিকভাবে অসুস্থতা ইত্যাদি।

উল্লিখিত আইন না মেনে অর্থাৎ অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে ওই ব্যক্তি এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৪-এর বিধান মতে, কারাদণ্ডের মেয়াদ ৭ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। © All rights reserved © 2020 ABCBanglaNews24
Theme By bogranewslive
themesba-lates1749691102