October 23, 2021, 10:29 am
তাঁজাখবর
সাংবাদিক নাসির উদ্দীন বালীর মৃত্যুতে শোক সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত প্রয়াণ দিবসে কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে বগুড়ায় আলোচনা চৌহালীতে খাষপুকুরিয়ার ইউপি নির্বাচনে নৌকা’র প্রতীক প্রত্যাশী মাসুম সিকদার আদমদীঘিতে রক্তদহ বিলে অভিযানঃ ২ হাজার মিটার ভাদাই জাল জব্দ সান্তাহারে ট্রেন থেকে চোলাই মদসহ গ্রেপ্তার ১ কাজিপুরে আওয়ামীলীগের উদ্যোগে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল দক্ষিণ বঙ্গের রাজনৈতিক অভিভাবক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র হাত ধরে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নন্দীগ্রামে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার-৬ বাগমারায় দখলীয় নির্মাণাধীন ঘর জামাল ক্যাডার বাহিনী দ্বারা বিধ্বস্ত শাজাহানপুরে ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেলেন যারা

পদ্মা যশলদিয়া ও সায়দাবাদে কোনও ‘দুনীর্তি হয়নি’ -দাবি ওয়াসার এমডির (পর্ব-২)

সংবাদদাতার নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০
  • 21 দেখা হয়েছে:
 তৌহিদুজ্জামান তন্ময়
বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা ঢাকা মহানগরীতে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ করছে। ঢাকা ওয়াসা বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২৪০-২৫০ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে দৈনিক ২৬০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করেছে। ঢাকা ওয়াসা ৮৮৭টি গভির নলকূপ থেকে শতকরা প্রায় ৬৬ ভাগ ও সায়েদাবাদ ফেজ-১ ও ফেজ-২সহ মোট ৫টি পানি শোধনাগার থেকে শতকরা ৩৪ ভাগ পানি সরবরাহ করছে।
মুন্সীগঞ্জের পদ্মার (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার প্রকল্প ও রাজধানীর সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প ঘুরে এ নিয়ে তিন পর্বের একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন তৈরি করেছেন ব্রেকিংনিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট তৌহিদুজ্জামান তন্ময়। আজ মঙ্গলবার সিরিজটির দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করা হলো।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনা ও সহযোগিতার ফলে ঢাকা ওয়াসা বর্তমানে পরিবেশ-বান্ধব, টেকসই ও গণমুখী পানি ব্যবস্থাপনার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সে লক্ষ্যে ঢাকা ওয়াসা ইতোমধ্যে একটি ওয়াটার মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করেছে। মাস্টার প্ল্যানের সুপারিশ অনুযায়ী ২০২৫ সাল নাগাদ শতকরা ৭০ ভাগ ভূপৃষ্ঠ পানির উৎস থেকে এবং শতকরা ৩০ ভাগ ভূপৃষ্ঠ থেকে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ঢাকা ওয়াসা কাজ করছে। গত ১ অক্টোবর, ২০১৯ থেকে ৪৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন সক্ষমতা সম্পন্ন পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগারটি চালু হয়েছে।
পদ্মা যশলদিয়া পানি শোধনাগার প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগারটি চীন সরকারের অর্থায়নে জনস্বার্থে নির্মিত। ইপিসি/ট্র্যাংকি ভিত্তিতে নিয়োজিত চীনা ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিমূল্য ছিল ২৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার; যা অপরিবর্তিত থাকে। ২৯০ মিলিয়ন ডলারের একটা বেশি ডলারও দেয়ার ক্ষমতা ছিল না চীনের। কারণ ডলার দিয়েছেই তারা এবং মজার ব্যাপার হলো এই টাকা আমরা কোনোদিন দেখিনি এমনকি বাংলাদেশ সরকারও দেখিনি। প্রকল্পের একজন কনসাল্টেন্ট থাকে। তিনি প্রথমে কাজ দেখে এরপর ১০০ টাকার কাজ শেষ হলে কনসাল্টেন্ট ৮০ টাকা পরিশোধ করার জন্য আইপিসি তৈরি করে দেয়। এরপর ওই কনসাল্টেন্টের ফাইল যায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেখান থেকে যায় মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাইল পাঠায় ইআরডিতে। আমরা সরাসরি ইআরডিতে পাঠাতে পারিনা। ইআরডিতে থেকে পাঠানো হয় চাইনিজ এম্বাসিতে। সেখান থেকে চলে যায় চাইনিজ এক্সিম ব্যাংকের কাছে। চাইনিজ এক্সিম ব্যাংক তখন সবকিছু দেখেশুনে কন্টাক্টারের কাছে পেমেন্ট করে দেয়। ২৯০ মিলিয়ন ডলারের এক ডলারও বাংলাদেশের কোনও ব্যাংকের মধ্যে জমা হয়নি।
তিনি বলেন, প্রকল্পের মূল নির্মাণ ব্যয় অপরিবর্তিত থাকলেও বিভিন্ন সময়ে ডলারের বিনিময় মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্প ব্যয় বাড়লেও চুক্তিমূল্যের সমান অর্থ ঋণদাতা চায়না এক্সিম ব্যাংক সরাসরি ডলারে পরিশোধ করায় প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় বাড়েনি এবং কোনও ধরনের দুর্নীতিও হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার নির্মাণকাজ শেষ হলেও ঢাকা শহরে এই পানি সরবরাহের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক না থাকায় সর্বোচ্চ ক্ষমতায় উৎপাদন করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় বিতরণ নেটওয়ার্ক নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পানি শোধনাগারের পুরো সুফল পাওয়া যাবে। পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগারটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিধায় এটি পরিচালনার মত প্রশিক্ষিত পর্যাপ্ত জনবল ঢাকা ওয়াসার নেই। সেকারণে প্ল্যান্টটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার চায়না কেমক লিমিটেডকে নিযুক্ত করা হয়। ঢাকা ওয়াসা বোর্ডসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে পিপিআর-২০০৮ এবং ইজিপি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রতিটি কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ।
সূত্র জানায়, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে প্রতি বছর ভূগর্ভস্থের স্তর ২ থেকে সোয়া ৩ মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। এর ফলে শুধু পরিবেশের জন্য নয়, ভবিষ্যতে খাবার পানির জন্যও হুমকি। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে ভূপৃষ্ঠস্থ পানি ব্যবহারের লক্ষ্যে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পপের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) থেকে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ২৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং চায়না এক্সিম ব্যাংক (চীন) প্রকল্প সাহায্য হিসেবে প্রদান করে ২ হাজার ৪০৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
ঢাকায় দৈনিক ২৩৫ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে ২৩৫ কোটি লিটার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এর মধ্যে ভূ-গর্ভস্থ উৎস থেকে ৭৮ শতাংশ এবং সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে বাকি ২২ শতাংশ চাহিদার জোগান দিচ্ছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠস্থ উৎস থেকে প্রতিদিন ৪৫ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি ঢাকায় সরবরাহ সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের দুর্নীতির  অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, পিপিআর-২০১৮ যথাযথভাবে অনুসরণ করেই সিপিটিইউ প্রণীত টেন্ডার ডকুমেন্ট ফরম্যাট পিডব্লিইউ৭ অনুসরন করে তিন বছর বা ৩৬ মাস মেয়াদে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি সুয়েজ ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে টেকনিক্যাল সাপোর্ট সার্ভিসেস এবং ওএন্ডএম’র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই কোম্পানির সঙ্গে প্ল্যান্ট চালু রাখাসহ ২০১২ সাল থেকে প্রথম পর্যায়ে তিন বছর এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে দুই বলছর পরিচালনার জন্য লোকবলসহ ওএন্ডএম চুক্তি ছিল। ২০১৮ সালে সীমিত আকারে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য টেকনিক্যাল সাপোর্টের আওতায় তিন বছরের জন্য করা হয়।
তাকসিম এ খান বলেন, ‘ডেনমার্কের একটি ফার্ম তৈরি করেছে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প। তৈরি করার পর তাদের শর্ত ছিল তারা এটা টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেবে। তারা তিন বছর ও আরও দুই বছর মোট পাঁচ টেকনিক্যাল সাপোর্টও দিয়েছে। এরপর আমরা তাদের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছি। এখানে যাদের দেখছেন তারা ওই ডেনিস ফার্মেরই লোক। আমরা তাদেরকে নিয়োগ দিয়েছি এবং তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি। চুক্তিতে বলা আছে- সম্পূর্ণ প্রকল্পের টেকনিক্যাল সাপোর্ট আমাদের দেয়া লাগবে। কোনও সমস্যা হলে তারা আমাদের সব ধরনের টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেবে। ১৫টি পয়েন্টে তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী মাসে ২৬ লাখ টাকা আমাদের দেয়া লাগে। এরমধ্যে বড় কোনও ধরনের সমস্যা হলে তারা সরাসরি এসে সমাধান করে দিয়ে যাবে। এটা কোনও ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি নয় এটি একটি ফার্মের সঙ্গে চুক্তি।’
সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পে অনেক মিডিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বলেছেন, ‘একজন কনসাল্টেন্ট দিনে ১৫ লাখ টাকা বেতন নেন। কিন্তু সত্যটা হলো মাসিক ২৬ লাখ টাকার একটি চুক্তি হয়েছে বিদেশি এক কোম্পানির সঙ্গে, কোনও ব্যক্তির সঙ্গে নয়’- যোগ করেন ওয়াসার এমডি।
ঢাকা ওয়াসার এমডি বলেন, ওয়াটার মাস্টার প্লান বাস্তবায়নে টেকসই, গণমুখী ও পরিবেশবান্ধব পানি সরবরাহ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ইতোমধ্যে এ লক্ষ্যে দুটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে ওয়াসা। ৪৫ কোটি লিটার পানি শোধনযোগ্য সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প-৩, যা ২০২৫ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। ৫০ কোটি লিটার পানি শোধনযোগ্য প্রকল্প গর্ন্ধব্যপুর পানি শোধনাগার, যা ২০২৩ সাল নাগাদ সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে আমরা ঢাকার পানির চাহিদা এবং সরবরাহের সমতা এনেছি। থিউরিটিক্যাল এবং প্রাকটিক্যাল কোনো দিক থেকেই পানির অভাব নেই। বর্তমানে ৩৩ শতাংশ পরিশোধিত পানি এবং বাকিটা ভূগর্ভস্থ পানি ঢাকা ওয়াসা সরবরাহ করছে। এটিকে ৭০ শতাংশ পরিশোধিত পানি এবং ৩০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানির লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যেতে আমরা কাজ করছি।
তাকসিম এ খান বলেন, ‘দুটি বড় পানি শোধনাগার প্রকল্প নির্মাণ কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে গন্ধব্যপুর পানি শোধনাগার প্রকল্প। এ প্রকল্পে মেঘনা নদীর উৎস হতে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি ঢাকা শহরে সরবরাহ করা হবে। এডিবি, ইআইবি ও এএফডির আর্থিক সহয়তায় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং তা ২০২৩ সাল নাগাদ শেষ হবে। মোত প্রকল্প ব্যয় হবে পাঁচ হাজার ২৫০ কোটি টাকা।’
সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ-৩) মেঘ্না নদীর উৎস থেকে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি ঢাকা শহরে সরবরাহ করা হবে। ড্যানিডা, ইআইবি, কেএফডব্লিইউ ও এএফডির আর্থিক সহয়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। ২০২৫ সাল নাগাদ প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে। এর মোট ব্যয় হবে ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। © All rights reserved © 2020 ABCBanglaNews24
Theme By bogranewslive
themesba-lates1749691102