November 29, 2021, 4:56 am

বগুড়ায় ১০ টাকায় চারটি মাস্ক!

সংবাদদাতার নাম:
  • প্রকাশিত: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২০
  • 21 দেখা হয়েছে:

ডেস্ক: বগুড়ায় নিম্নমানের করোনাভাইরাসের সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। মাত্র ১০ টাকায় চারটি মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে শহরের আলি-গলিতে। করোনা মানুষের জীবন-জীবিকা ওলট পালট করে দিয়েছে। বেকার হয়ে পড়া অনেক শ্রমিক পেশা বদল করে ফেলেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়ার ফতেহ আলী সেতুর উপরে, রেল লাইনের উপর দুই কিশোর হাতে কথিত নিম্নমানের সার্জিকাল মাস্ক ঝুলিয়ে হাঁকছে চারটা দশ। আর একটু এগিয়ে কবি নজরুল ইসলাম সড়কে দিকে এগিয়ে যেতে করোনা সুরক্ষার উপকরণসহ মাস্ক হাতে ঝুলিয়ে বলছে ৩টা ১০টাকা। যারা হোটেল বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করত করোনা তাদের বেকার করে দিয়েছে। বেকার করে দিলেও সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি করে জীবিকা অর্জনের পথ খুলে দিয়েছে এই করোনা। তবে ১০ টাকায় ৩ অথবা ৪ মাস্ক ও অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী কতটা করোনা সুরক্ষা দিতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কিন্তু দেখার কেউ নাই।
করোনা সুরক্ষার নানা পণ্যের পশরা শহর জুড়ে। বিক্রি হচ্ছে কথিত নানা ধরনের মাস্ক, নানা ধরেনের হ্যান্ড গ্লাভস, ফেস শিল্ড, হ্যান্ড স্যানেটাইজার , হেক্সিসল, পিপিই, স্যাভলন ও ডেটল। আর এসব নিয়ে পশরা সাজিয়ে বসেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ছাঁটাই হওয়া বেকার যুবকেরা।
হোটেল-রেস্টুরেন্ট বয়ের চাকরি হারিয়ে আবুল কাদের জানান, হোটেল বন্ধ তাই সে বেকার হয়ে পড়েছে। সংসার চালাতে তাকে নিম্নমানের হলেও করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রির পথ বেছে নিতে হয়েছে। ১০ টাকায় কেন তিনটি মাস্ক বিক্রি করছে আর এই মাস্ক সামগ্রী বিক্রি করে কত উপার্জন হয়? উত্তরে কাদের জানায়, মাস্ক নিম্নমানের কি না তা জানি না। তবে ওয়ানটাইম ব্যবহৃত মাস্ক মানুষ এক বার ব্যবহার করতে পারে। তাই এর চাহিদা আছে।
শহরের দুই নম্বর রেল গেটে মাস্ক বিক্রেতা কিশোর হানিফ মিয়া বলেন, ১০টাকায় চারটি মাস্ক বিক্রি করছি। মানুষ কিনছে। হোটেল বন্ধ। তাই রাস্তায় মাস্ক বিক্রি করছি। দাম না কমালে বেশি দামের মাস্ক মানুষ কিনতে চায় না।
শহরের প্রাণ কেন্দ্র সাতমাথায় পান বিক্রেতা সাইদুল আলম জানান, তার করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রির কথা। সাতমাথায় আগার মতো লোক সমাগম হয় না। পান, সিগারেট বিক্রি একেবারে শুন্যের কোঠায় ঠেকে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তার মতো অনেকই করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রির পথ বেছে নিতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের শ্রমিক ক্ষুদ্র ইঞ্জিনিয়ারিং শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শ্রমজীবী মানুষ চাকরি হারিয়ে এই পথ বেছে নিতে হয়েছে। শুধু করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি করেই নয়, অনেকে পেশা বদল করে রিকশা চালাচ্ছে, আবার কেউ রিকশা ভ্যানে তরকারি বিক্রি করছে। করোনায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মালিক তাদের বসে রেখে বেতন দিতে না পারায় তাদের কাজ থেকে বাদ দিয়েছে।

বগুড়া বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিল্টল রহমান জানান, করোনাকালে তাদের ফাকট্রি চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। লকডাউন থাকায় অনেক ক্ষুদ্র ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টর বন্ধ, হোটেল পুরোপুরি বন্ধ, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বেচাকেনা সীমিত হয়ে গেছে। তাতে বগুড়ার প্রায় ২০ শতাংশ শ্রমিক অন্য পেশায় চলে গেছে।
সার্জিকেল দোকানে একটি মাস্কের দাম ১৫ টাকা আর রাস্তায় মাস্কের পশরা সাজিয়ে চারটি মাস্ক ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কেমন করে ? এমন প্রশ্নের উত্তরে বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজার রহমান তুহিন জানান, সার্জিকাল দোকানে যে মাস্ক বিক্রি হচ্ছে তা ঠিক আছে। কিন্তু রাস্তায় বা পথেঘাটে মাস্কসহ করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি সম্পর্কে তার কিছু জানা নেই। তবে এসব মাস্ক ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি। সুত্র:আমাদের সময়

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। © All rights reserved © 2020 ABCBanglaNews24
Theme By bogranewslive
themesba-lates1749691102