January 25, 2022, 8:51 pm

ভাস্কার্যবিরোধী বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান

সংবাদদাতার নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০
  • 99 দেখা হয়েছে:

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিষয়ে যারা ঔদ্ধত্বপূর্ণ ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান করেছে এবং নানা রকম হুমকি দিচ্ছে, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইসলামের শত্রু বলে মন্তব্য করে তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড. আ ক ম মোজাম্মেল হক।

বুধবার (২ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এই আহ্বান জানান।

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মূর্তি ও ভাস্কর্য এক জিনিস নয়। বিশ্বের প্রায় সকল ইসলামিক রাষ্ট্রে প্রাচীনকাল থেকে ভাস্কর্য রয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে গাজীপুর চৌরাস্তায় মুক্তিযোদ্ধার হাতে রাইফেল ও গ্রেনেড সম্বলিত ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়। যা অদ্যাবধি বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু এখন যে সকল ধর্ম ব্যবসায়ী ভাস্কর্যের বিষয়ে কথা বলছে তাদের উদ্দেশ্য কি? ভাস্কর্য ইস্যুতে হক্কানী আলেমদের ঈমানী দায়িত্ব পালন করতে হবে।

এ বিষয়ে ইসলামের সঠিক তথ্য সকলকে জানাতে হবে। ইসলামে ভাস্কর্য নিষেধ বা হারাম নয়, ইসলামিক রাষ্ট্র ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে প্রচুর ভাস্কর্য রয়েছে। জনগণকে এই বিষয়টি জানাতে হবে।’ এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিষদাঁত ভেঙ্গে ফেলতে হবে। কয়েকজন ব্যক্তির কাছে ইসলাম ধর্মকে লিজ দেয়া হয়নি।’

সরকার‌কে অনু‌রোধ জা‌নি‌য়ে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বিশেষভাবে সরকারকে অনুরোধ করতে চাই, বিশেষ করে আমাদের তথ্য মন্ত্রণালয়কে, পৃথিবীর সমস্ত মুসলিম অধ্যুষিত দেশে এবং তাদের সাধের পাকিস্তানসহ সব দেশের ভাস্কর্য টেলিভিশনের মাধ্যমে সারা জাতিকে দেখানো হোক। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হোক, সেসব সংগ্রহ করে আমাদের দেশে পাঠানো হোক। এরপর তারা বলুক কোন উদ্দেশ্য তারা বাস্তবায়ন করতে চায়, তাদের এজেন্ডা কী।’

তিনি বলেন, ‘একাত্তরের আগে তখনও বলা হয়েছে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে এদেশে ইসলাম থাকবে না। ইসলামের কবর রচনা হয়ে যাবে। আমার মনে হয়, সেই গোষ্ঠীর কিছু সংখ্যক নামধারী আলেম ইসলামকে কলঙ্কিত করার জন্য, ইসরায়েলের সঙ্গে যাদের বন্ধুত্ব, তাদের টাকায় অতি ধর্মপরায়ণ ভাব দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ইসলামের অপব্যাখ্যা করে আমাদের পবিত্র ধর্মকে বিতর্কিত করে তুলছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইসলামিক রাষ্ট্র পৃথিবীতে তিনটি, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ইরান। ইরানে খামেনির বিশাল ভাস্কর্য আছে। করাচিতে বেনজির ভুট্টোর বিশাল ভাস্কর্য আছে, আফগানিস্তানেও আছে। অন্যান্য মুসলিম অধ্যুষিত দেশেও আছে। ১৯৭২ সালে গাজীপুরে ভাস্কর্য বানিয়েছিলাম আমরা। গ্রেনেড, অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কই এতদিন তো কেউ কিছু বলে নাই। হঠাৎ করে যেনতেন কারও না, বঙ্গবন্ধুর নাম ধরে বলে- তার ভাস্কর্য স্থাপন করলে এই করবে সেই করবে। এদের ধৃষ্টতা কত বড়।’

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা চিত্ররঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুল, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিম, মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল বাহার টিপু, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা ও বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী এস ডি রুবেল প্রমুখ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। © All rights reserved © 2020 ABCBanglaNews24
Theme By bogranewslive
themesba-lates1749691102