December 2, 2021, 7:32 pm

মেজর সিনহাকে কেন গুলি করেছিলেন, র‌্যাবকে যা জানালেন লিয়াকত

সংবাদদাতার নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২০
  • 38 দেখা হয়েছে:

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঘটনাস্থলে নিজেকে অনিরাপদ মনে করেই অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদকে মুহূর্তে গুলি করেছিলেন বলে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন আলোচিত এই হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে সিনহা হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ অভিযুক্ত ৩ পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাবের হেফাজতে যাওয়া এই তিন পুলিশ সদস্য হলেন- সিনহা হত্যার ঘটনায় তার বোনের করা মামলার ১ নম্বর আসামি টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত, ২ নম্বর আসামি টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস ও ৩ নম্বর আসামি বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত।

রিমান্ডে নেয়ার পর থেকেই কোন পরিস্থিতিতে কী কারণে মেজর সিনহাকে গুলি করা হয়েছিল তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাব। এটা কী পরিকল্পিত নাকিহ তাৎক্ষণিক হত্যা, সেটা নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে লিয়াকতের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন চেকপোস্টে গুলি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলো? জবাবে লিয়াকত দাবি করেছেন, তিন সোর্স তাকে জানিয়েছিলেন, এই পথে যারা গাড়িতে আসছেন তারা ডাকাত। এটা বিশ্বাসও করেছিলেন তিনি। পরে বুঝতে পারেন সোর্স তাকে মিসগাইড করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তিন সোর্স নুরুল আমিন, মো. নাজিমুদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াজের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন।

র‌্যাবের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লিয়াকত দাবি করেছেন, তিন সোর্সের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর এসআই নন্দ দুলালকে নিয়ে দ্রুত এপিবিএনের চেকপোস্টে চলে আসেন তিনি। নন্দ দুলালের মোটরসাইকেলে সিভিল ড্রেসে তারা এসেছিলেন।

মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলায় রিমান্ডপ্রাপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল শনিবার নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব। এপিবিএন সদস্য হলেন- এপিবিএনের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহজাহান, কনস্টেবল রাজীব ও আব্দুল্লাহ। গত ৩১ জুলাই সিনহা হত্যার রাতে এই তিনজনই এপিবিএনের চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ঘটনার রাতে এপিবিএনের সদস্যরা পরিচয় পেয়ে সিনহার গাড়ি ছেড়ে দিলেও টেকপোস্টের শেষ মাথায় ড্রাম ফেলে সিনহার গাড়ি আটকে দেন লিয়াকত। এর এক-দেড় মিনিটের মধ্যেই ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তবে সিনহাকে গুলি করার ব্যাপারে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে লিয়াকত কিছুটা এলোমেলো তথ্য দিচ্ছেন বলে সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

তিনি কখনও বলছেন, তার মনে হয়েছে অপর পাশ থেকে এক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। আবার বলছেন, তার মনে হয়েছে যেকোনও সময় তাদের ওপর গুলি হতে পারে। এ-ও বলছেন, ডাকাতের কাছে অস্ত্র থাকতে পারে- এমন আশঙ্কাও ছিল তার। লিয়াকত এটাও দাবি করেছেন, অস্ত্র তার দিকে তাক করা হয়েছিল। তবে পুরো ঘটনাটি নিয়ে তার বোঝার ভুল ছিল বলেও দাবি করেছেন লিয়াকত। এমনকি এজাহারের কথাগুলোই তার কথা বলে দাবি করেছেন।

এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন কী ঘটেছিল যে ১-২ মিনিটের মধ্যে গুলি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন লিয়াকত। আর অ্যালিয়ন গাড়িতে ডাকাত চলাফেরা করারও কথা নয়। ওই গাড়িতে মাদক পাচার হচ্ছে বললেও হয়তো বাস্তবতার সঙ্গে মিলতো। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ওসি প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দ দুলালের কথায় ফাঁকফোকর দেখছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাক বাহারছড়া চেকপোস্টে নিরাপত্তা চৌকিতে তল্লাশির সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসী বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে এসআই লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আলোচিত এ হত্যা মামলার ৯ আসামি হলেন- টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস, টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা। এদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক আছেন।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে।

সিনহা হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ৭ পুলিশ, আর্মড পুলিশের ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩ সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার ৩ সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বিভিন্ন সময় প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এর মধ্যে রিমান্ড শেষে ৪ পুলিশ ও পুলিশের করা মামলার ৩ সাক্ষী কারাগারে রয়েছেন। প্রদীপ, লিয়াকতক, নন্দ দুলাল ও তিন এপিবিএন সদস্যসহ ৬ আসামি এখন র‌্যাবের রিমান্ডে রয়েছেন। ওই ৬ জন হলেন- টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস, টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, এপিবিএনের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহজাহান, কনস্টেবল রাজীব ও আব্দুল্লাহ।

মেজর সিনহা হত্যায় পুলিশের করা মামলায় সিনহার সঙ্গে থাকা শিপ্রা দেবনাথ ও শাহেদুল ইসলাম সিফাত গ্রেফতার হওয়ার পর দুজনই জামিনে মুক্ত হন। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। © All rights reserved © 2020 ABCBanglaNews24
Theme By bogranewslive
themesba-lates1749691102