October 26, 2021, 4:32 am
তাঁজাখবর
যমুনার পাড়ে দাড়িয়ে থাকা যে দশজন নৌকায় উঠতে পারলেন বাগমারায় উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে চায় আল- মামুন বাগমারায় এক গৃহবধূ নির্যাতনের শিকার বগুড়া সদরের লাহিড়ীপাড়ায় নিহত সিএনজি চালক জাহেরের দাফন শেষে সিএনজি চালকদের মানববন্ধন সাংবাদিক নাসির উদ্দীন বালীর মৃত্যুতে শোক সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত প্রয়াণ দিবসে কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে বগুড়ায় আলোচনা চৌহালীতে খাষপুকুরিয়ার ইউপি নির্বাচনে নৌকা’র প্রতীক প্রত্যাশী মাসুম সিকদার আদমদীঘিতে রক্তদহ বিলে অভিযানঃ ২ হাজার মিটার ভাদাই জাল জব্দ সান্তাহারে ট্রেন থেকে চোলাই মদসহ গ্রেপ্তার ১ কাজিপুরে আওয়ামীলীগের উদ্যোগে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল

যমুনায় নাব্যতা সংকট, ড্রেজিং চলছে ধীর গতিতে

সংবাদদাতার নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২০
  • 67 দেখা হয়েছে:

শাহজাহান বিশ্বাস, মানিকগঞ্জ

আরিচা লঞ্চ ঘাটের অদূরে যমুনায় অতিমাত্রায় পলি জমে ডুবোচর জেগে ঘাট এলাকায় নাব্যতা সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।  চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।  ড্রেজিং চলছে ধীর গতিতে।  এতে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে লঞ্চ, স্পিডবোট চলাচল ব্যহত হচ্ছে।

নব্যতা সংকটের কারণে এসব নৌ-যানগুলোকে অনেকটা দূর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।  এছাড়া লঞ্চ ঘাটটি আগের স্থান থেকে এক কিলোমিটার ভাটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দ্রুত গতিতে ড্রেজিং না করলে ঘাট এলাকায় চর জেগে আরিচার মধ্যে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।  এতে ভোগান্তিতে পরবে আরিচা ঘাট হয়ে পাবনা, ইশ্বরদী, রাজশাহী, চাপাইসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী যাত্রীরা।

প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার লোক যাতায়াতা করে থাকে এ ঘাট দিয়ে।  এছাড়া নাব্যতা সংকেটর কারণে পণ্য বোঝাই নৌযান আরিচা ঘাটে ভীরতে না পারলে মালামাল লোড-আনলোডেও সমস্যা হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ব্যাঘাত ঘটবে এবং চরম বিপাকে পড়বেন আরিচা ঘাটের ব্যবসায়ীরা।

বিআইডব্লিউটিএ’র হাইড্রোগ্রাফি সূত্রে জানা গেছে, শুস্ক মোৗসুম শুরু হবার আগেই পদ্মা-যমুনার নৌ-চ্যানেলগুলোতে অতিমাত্রায় পলি পড়ার কারণে এ নব্যতা সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে।  আরিচা লঞ্চ ঘাটের কাছে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহেও ২০ থেকে ২৫ ফুট পানি ছিল।  অক্টোবরের শেষের দিকে হঠাৎ করে আরিচা ঘাটের কাছে ডুবোচরের কারণে নাব্যতা সংকটের সৃষ্টি হয়।  উজান থেকে অতিমাত্রায় পলি এসে নৌ-চ্যানেলে পড়ে ডুবোচরের সৃষ্টি হচ্ছে।  বর্তমানে আরিচালঞ্চ ঘাটের কাছে ৩/৪ ফুট করে পানি রয়েছে।

আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচলের জন্য ৬-৭ ফুট পানির প্রয়োজন হয়।  আরিচা ৪নং লঞ্চ ঘাট এলাকায় প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় গত ২৭ অক্টোবর লঞ্চ ঘাটটি সরিয়ে এক কিলোমিটার ভাটিতে নেওয়া হয়েছে।  অন্যান্য নৌযান দফায় দফায় ডুবোচরে আটকে পড়ছে এবং স্পিডবোটগুলো ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে।  এভাবে পলি পড়তে থাকলে দ্রুতগতিতে ড্রেজিং না করলে নাব্যতা সংকট চরম আকার ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ইতমধ্যে নৌপথ সচল রাখতে বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা কাছে যমুনায় তিনটি ড্রেজার দিয়ে খনন কাজ শুরু করেছে।  নৌপথ সচল না হওয়া পর্যন্ত এ ড্রেজিং কার্যক্রম চলবে বলে ড্রেজিং বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার (০৪ নভেম্বর) সরজমিনে আরিচা ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ড্রেজিংকৃত নদীর মাটি নদীতেই ফেলা হচ্ছে।  এতে একদিকে মাটি কাটা হচ্ছে অপরদিকে নদী ভরাট হচ্ছে।

আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ২০টি লঞ্চ, ৩৫টি স্পিডবোট এবং ৫০টি ইঞ্জিন চালিত স্যালো নৌকা চলাচল করে থাকে।  বিশেষ করে আরিচা-কাজিহাট নৌপথে স্পিডবোট সার্ভিস চালু হওয়ার পর টাঙ্গাইল রোডে ও বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় যানজটসহ নানা ধরনের ভোগান্তির কারণে পাবনা, ইশ্বরদী, রাজশাহী, বগুড়া, চাপাই, রংপুর সিরাজগঞ্জ, চৌহালিসহ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লোকজন এখন আরিচা ঘাট হয়েই যাতায়াত করে থাকে।

প্রতিদিন এসব এলাকার প্রায় ৪/৫হাজার লোক লঞ্চ, স্পিডবোট ও নৌকায় যাতায়াত করে থাকে।  ফলে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

এদিকে লঞ্চ ঘাটটি আগের স্থান থেকে এক কিলোমিটার ভাটি সরিয়ে নেওয়া হলেও স্পিডবোট আগের স্থান থেকেই চলাচল করছে।  লঞ্চ ঘাট সরানো হলেও টিকিট কাউন্টার আগের স্থানেই রয়ে গেছে।  এসব যাত্রীদেরকে লঞ্চের টিকিট দিয়ে ইঞ্জিন চালিত স্যালো নৌকাযোগে এক কিলোমিটার ভাটিতে নিয়ে লঞ্চে  উঠানো হচ্ছে।  যাত্রীদেরকে লঞ্চের টিকিট কেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে স্যালো নৌকায়।  ফলে বাক্স, পেটোরা নিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে এসব যাত্রীদেরকে।

ভুক্তভোগী লঞ্চযাত্রী পাবনার শামীম জানান, তিনি গত মঙ্গলবার পাবনা যাবার উদ্দেশ্যে নবীনগর থেকে আরিচা ঘাটে এসে রিতিমত লঞ্চের টিকিট কেটে ওঠতে হয় তাকে ইঞ্জিন চালিত স্যালো নৌকায়।  দীর্ঘ সময় তাকে এ নৌকাতেই  বসে থাকতে হয়।  এরপর নৌকাযোগে এক কিলোমিটার ভাটিতে গিয়ে তাকে লঞ্চে উঠতে হয়।  ব্যাগ ও জিনিসপত্র নিয়ে এভাবে লঞ্চে উঠা খুবই ঝুকিপূর্ণ।  বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে নারী যাত্রীদেরকে বেশি অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।

আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে চলাচলকারী লঞ্চ  চালকরা জানান, স্বাভাবিকভাবে লঞ্চ  চলাচলের জন্য ৫/৬ফুট পানির গভীরতার প্রয়োজন।  আরিচা লঞ্চ ঘাটের অদূরে পানির গভীরতা আছে ৩/৪ফুট। যেকারণে লঞ্চগুলো ডুবোচরে আটকে পড়ছে।  নাব্যতা সংকটের কারণেই বাধ্য হয়ে লঞ্চ ঘাট আগের স্থান থেকে সরিয়ে এক কিলোমিটার ভাটিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।  দ্রুতগতিতে ড্রেজিং না হলে আরিচার মধ্যে নৌযান-চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন তারা।

আরিচা স্পিডবোটের পরিচালক নজরুল ইসলাম বাবু জানান, আরিচা ঘাটের কাছে নাব্যতা সংকেটর কারণে তাদের স্পিডবোট চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।  আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ৩৫টি বোট চলাচল করছে। এসব বোট চলাচলের জন্য ৪/৫ ফুট পানির দরকার।  কিন্ত আরিচা ঘাটের কাছে কোথাও কোথাও ৩ ফুট পানি রয়েছে।  এমতাবস্থায় স্বাভাবিকভাবে স্পিডবোট চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।  আরিচা ঘাটের কাছে যমুনায় অতি দ্রুত ড্রেজিং করার দাবি জানান তিনি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। © All rights reserved © 2020 ABCBanglaNews24
Theme By bogranewslive
themesba-lates1749691102