November 29, 2021, 11:19 am

রাজশাহীর ফার্মেসিতে মিলছে না নাপা প্যারাসিটামল

সংবাদদাতার নাম:
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, জুলাই ৩০, ২০২১
  • 68 দেখা হয়েছে:

রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহীতে গত দুই মাস থেকে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করার পর বেড়েছে সংক্রমণের হার। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে বেড়েই চলেছে রোগীর চাপ, সেই সাথে বাড়ছে প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদা। করোনায় আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি সাধারণ রোগীর চাহিদা অনুযায়ী নাপা, নাপা এক্্রটা, নাপা র‌্যাপিট, নাপা এক্সটেন্ড, এইচ প্লাস, নাপা ওয়ারগ্যাম, নাপা সিরাপসহ প্যারাসিটামল জাতীয় কয়েকটি ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার ফার্মেসিগুলোতে চাইলেই এস ওষুধ মিলছে না।

করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্যারাসিটামল জাতীয় এসব ওষুধের সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে মানুষের। ওষুধ ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, যেখানে ২০ প্যাকেট দরকার সেখনে পাওয়া যাচ্ছে ৩ থেকে ৪ প্যাকেট। বর্তমানে প্যারাসিটামল ট্যালেটের চাহিদা মিটাচ্ছে স্কায়ার কম্পানির-এইস, ওপসোনিন কম্পানির-রেনোভা ও একমি কম্পানির-ফাস্টÑ এই তিনটি কম্পানির প্যরাসিটামল জাতীয় ওষুধ এখন মোটামুটি পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এক পাতা প্রতি দুই থেকে ৫ টাকা বেশিও রাখছে প্যারাসিটামলের সকল কম্পানির ওষুধ গুলো।

প্লেন নাপা এক পাতায় তাকে ১০ টি দাম ৮ টাকা। সেখানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ১০ থেকে ১২ টাকা রাখছে ক্রেতাদের কাছে থেকে। আর বাকি যে সকল প্যারাসিটামল ট্যাবলেট রয়েছে সেগুলো এক পাতায় ১০ টি দাম ২০, ২২ টাকা থেকে ২৫ টাকা সেখানেও দুই থেকে ৫ টাকা বাড়ানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে বেলা ৩ টায় জ্বরের ওষুধ নাপা এক্সটেন্ড ও এইচ প্লাসের জন্য এক ফার্মেসি থেকে অন্য ফার্মেসি ঘুরছিলেন রাবেয়া খাতুন। বেশ কয়েকটি ফার্মেসি ঘুরে হাতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে অন্য ওষুধ কিনেছেন। কিন্তু চিকিৎসক যে প্যারাসিটামল লিখেছে তা না পেয়ে শেষে দোকানি তাকে পরামর্শ দিলেন রেনোভা নিতে।

একটু পরে সংবাদকর্মী মামুনও প্যরাসিটামল ট্যাবলেটের জন্য দুই দোকান ঘুরে সাধারণ নাপা পেলেন না। সাহেববাজার জিরোপয়েন্টের ফয়সাল ফার্মেসির কর্মি মোমিন জানান, জ্বরের ওষুধের সঙ্কট আছে। কম্পানি যে পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ করে তা চাহিদার তুলনায় একেবারে অপ্রতুল। গত দেড় মাস থেকে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই কম্পানিগুলোতে ওষুধের জন্য তাগাদা দেয়া হচ্ছে। তবে সরবরাহ না থাকায় আমাদেরও কিছু করার থাকছে না।

জেলার পুঠিয়া উপজেলার ফাতেমা ফার্মেসির মালিক মোতাহারুল ইসলাম তপু জানান, করোনার সূচনালগ্ন থেকেই নাপা জাতীয় ওষুধের সঙ্কট চলছে। দুই মাস থেকে এই সঙ্কট আরো প্রকট হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে জ্বরের ওষুধের চাহিদা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। আপাতত দুই একটি কম্পানির ওষুধ দিয়ে ক্রেতাদের বিদায় করা হচ্ছে। তারা ১০ টি চাইলে আমরা ২ টি দিতে পারছি। কম্পানির কাছে অর্ডার দিয়েও আমরা কম পাচ্ছি।

রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরিফুল হক জানান, আমি এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলবো। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দরকার হলে ফার্মেসিগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। কোনো ফার্মেসিতে এই ওষুধগুলোর কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করলে এবং বেশি দামে বিক্রির প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার জানান, প্যরাসিটামলের জন্য নাপাটাই মানুষ বেশি কিনে থাকে। তাই সেটার চাহিদা বেশি থাকায় কম পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু অন্য কম্পানির প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। © All rights reserved © 2020 ABCBanglaNews24
Theme By bogranewslive
themesba-lates1749691102