November 29, 2021, 4:58 am

শক্ত বাঁধের অভাবে ৭২ কোটি টাকা ক্ষতি

সংবাদদাতার নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২০
  • 46 দেখা হয়েছে:

আব্বাস আলী, নওগাঁ 

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নওগাঁর ছয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পুকুরের মাছ ভেসে গেছে ও ফসল পানিতে পঁচে নষ্ট হয়েছে। ফলে মাছচাষি ও কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

প্রতি বছর বাঁধ ভেঙে বন্যায় ব্যাপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে ভেঙে যাওয়া নদীর বাঁধগুলো ভালোভাবে মেরামত না করার কারণে প্রতি বছরই হাজার হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আসছে। তাই বাঁধগুলো স্থায়ীভাবে মেরামত ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নওগাঁর ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ১৫ জুলাই মান্দা উপজেলা আত্রাই নদীর উভয় তীরের নুরুল্লাবাদ উত্তরপাড়া, জোকাহাট, পাজরভাঙা, চকরামপুর ও কয়লাবাড়ি নামক স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে মান্দা-আত্রাই আঞ্চলিক সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরদিন ১৬ জুলাই সকালে আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ-বান্দাইখাড়া সড়কের আহসানগঞ্জ সুইচ গেটের দক্ষিণে জাতআমরুল জিয়ানী পাড়ার সামনে সড়ক ভেঙে যায়। এতে নওগাঁ জেলার সদর, রানীনগর, আত্রাই, মান্দা, সাপাহার ও পোরশা উপজেলার অধিকাংশ এলাকাগুলো বন্যার কবলে পড়ে। এ সময় মাছের ঘের ভেসে যায় ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

রানীনগর উপজেলার কৃষ্ণপুরগ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন জানান, চার বিঘা জমির আউশ ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া আমন ধানের জন্য তৈরি করা ১০ কাঠা জমির বীজতলাও তলিয়ে গেছে। নতুন করে আবার কৃষি অফিসের পরামর্শে উঁচু জমিতে বীজতলা তৈরি করতে হচ্ছে। এতে করে আমন ধান চাষে খরচ অনেকটাই বেশি পড়বে। প্রতি বছর বন্যায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। যদি নদী খননসহ বাঁধগুলো শক্তভাবে মেরামত করা যায় তাহলে বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

মান্দা উপজেলার চকবালু গ্রামের মৎস্যচাষি আশরাফুল ইসলাম জানান, তিন বছরের জন্য তিনটি পুকুর ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছি। সেখানে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ দেশীয় মাছ চাষ করছি। গত ১৫ জুলাই উপজেলা আত্রাই নদীর মান্দা-আত্রাই সড়কের চকরামপুর ও কয়লাবাড়ি নামক স্থানে ভেঙে যায়। এতে প্রায় ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে তিনটি পুকুর প্লাবিত হয়। এরমধ্যে একটি পুকুর থেকে পাঁচ মণের মতো মাছ ধরতে পেরেছেন। বাকি মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কোনো প্রস্তুতি ছিলো না। বন্যায় তার প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. রবীআহ নূর আহমেদ বলেন, জেলায় বন্যার কারণে ৩ হাজার ৯৭৬ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ কোটি টাকা। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি বাড়ার সঙ্গে ফসলের আরো ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত জেলায় ৩৭২টি পুকুর প্লাবিত হয়েছে। যার আয়তন প্রায় ৩০০ হেক্টরের মতো। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ কোটি টাকা। পানি বৃদ্ধি পেলে নতুন করে প্লাবিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। © All rights reserved © 2020 ABCBanglaNews24
Theme By bogranewslive
themesba-lates1749691102