May 25, 2022, 4:29 pm
তাঁজাখবর

শাজাহানপুরে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুরের রস

সংবাদদাতার নাম:
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০২১
  • 35 দেখা হয়েছে:

 

মিজানুর রহমান মিলন :

আবহমান গ্রাম বাংলার সুন্দর একটি প্রতিচ্ছবি শীতের সকাল । খুব ভোরে গাছ থেকে রস পেরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন গাছিরা। এটিই বাঙালীর ঐতিহ্য। কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যেতে বসেছে এই ঐতিহ্য। সুমিষ্ট খেজুরের রস পছন্দ করে না এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম।

কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে মিষ্টি রোদে মধুবৃক্ষ থেকে আহরণ এক গ্লাস সুমিষ্ট খেজুরের রস বাংলার মানুষকে সতেজ করে তোলে। কেউ কেউ খেজুরের রস মুড়ি দিয়ে খেতে ব্যাপক পছন্দ করে । আবার এই রস জ্বাল দিয়ে খেতে দারুণ সুস্বাদু। শীতকালে এই রস দিয়ে তৈরি গুড় ও পাটালির তুলনা হয় না। শীতের পিঠা-পায়েসের একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান খেজুরের রস। এক সময় দিগন্ত জুড়ে মাঠ কিংবা সড়কের দুই পাশে সারি সারি অসংখ্য খেজুর গাছ চোখে পড়লেও এখন দেখা মেলে হঠাৎ। কয়েক বছর আগেও এলাকার প্রতিটি বাড়িতে, কৃষি জমি ও ভিটাগুলোর পাশে ও রাস্তার দুই ধারে ছিল অসংখ্য খেজুর গাছ। গাছ সংকটের কারণে প্রতি বছরের মতো এ বছরও চাহিদা অনুযায়ী রস পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা ব্যবসায়িদের।

একটা সময় শীতকালে শহর থেকে মানুষ ছুটে আসতো গ্রামবাংলার খেজুর রস খেতে। তখন রস আহরণকারী গাছিদের প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যেত। রস জ্বালিয়ে পাতলা ঝোলা, দানা গুড় ও পাটালি গুড় তৈরি করতেন তারা। যার স্বাদ ও ঘ্রাণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন অবশ্য সে কথা নতুন প্রজন্মের কাছে রূপকথা মনে হতে পারে। কেননা সময়ের সাথে সাথে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন আধুনিকতার রাজ্যে দিকে ধাবিত হচ্ছে।

বগুড়ার শাজাহানপুরে গাছিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারা বছর অযন্তে-অবহেলায় পড়ে থাকা গ্রামগঞ্জের খেজুর গাছের কদর বাড়ে শীতের সময়। শীত মৌসুমের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুর গাছের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। ভরা মৌসুমে রস সংগ্রহের জন্য শীতের আগমনের শুরু থেকেই প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন তারা। প্রতি বছর চার মাস খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। একটি খেজুর গাছ আট থেকে দশ বছর পর্যন্ত রস দেয়।

উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের পরানবাড়িয়া গ্রামের রস ব্যবসায়ি আব্দুল মালেক(৭০) জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও খেজুর গাছের রসের ব্যবসার জন্য অনেক গাছ কিনতে চেয়েছিলাম কিন্তু সে রকম পেলাম না এজন্য এবার খেজুরের রসের ব্যবসা তেমন একটা হচ্ছে না । খেজুর গাছ আগের দিনের মত এখন আর চোখে পড়ে না। শাজাহানপুরের আড়িয়া ইউনিয়নের কিছু এলাকায় দেখা যায়, সেগুলো গাছ মালিকদের থেকে তিন মাসের চুক্তিতে গাছ নিয়েছি। খুব সকালে গাছ থেকে রস পেরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি গ্লাস ১০ টাকায় বিক্রি করি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। © All rights reserved © 2020 ABCBanglaNews24
Theme By bogranewslive
themesba-lates1749691102