October 21, 2021, 8:54 am
তাঁজাখবর
গোমস্তাপুরে ঝুকিপূর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিকে ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা উজিরপুরে হারতায় ২নং ওয়ার্ডে পূনরায় কৃষ্ণ বাড়ৈকে ইউপি সদস্য হিসেবে চায় সাধারণ জনগন বাগমারায় আবারো জেলার শ্রেষ্ঠ আইসি’ মো: রফিকুল ইসলাম শাজাহানপুরে শিশু বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে মসজিদের ইমাম আটক শাজাহানপুরে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা: গ্রেফতার ২ কাজিপুরে যমুনার তীর সংরক্ষন কাজে দ্বিতীয়বার ধস নেমেছে কাজিপুরে শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বাগমারায় ইউপি নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে চান আব্দুল হাকিম উজিরপুরে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে গ্রামীণ ব্যাংকের বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালন

শেরপুরে দেরিতে ফুলকপি বাজারজাত

সংবাদদাতার নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০২০
  • 37 দেখা হয়েছে:

্এসআই বাবলু শেরপুর (বগুড়া) থেকে-

বগুড়ার শেরপুরে ফুলকপির বাজার পরে যাওয়ায় হতাশ হয়েছে কপি চাষিরা। মৌসুমের শুরুর দিকে বাজার ভালো ছিল। কিন্তু ফলন ভালো হলেও দেরিতে বাজারজাত করায় আশানুরুপ লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেনা তাঁরা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শীতের সবজির মধ্যে ফুলকপি অন্যতম। তাই এর চাহিদা যেমন বেশি, তেমনি এ সবজি চাষে মুনাফাও বেশি। তবে তা হতে হবে আগামজাতের ফুলকপি। চলতি বছর এ কৌশল অবলম্বন করেই শেরপুর উপজেলায় চাষ হয়েছে ১৪৫ হেক্টর ফুলকপি এবং ৪০ হেক্টর বাঁধা কপি। উপজেলার সাধারণত গাড়ীদহ এবং খামারকান্দি ইউনিয়নের চাষিরা বানিজ্যিকভাবে এ সবজি চাষ করে থাকে। এছাড়াও খানপুর, মির্জাপুর ও শাহবন্দেগী ইউনিয়নের কিছু এলাকায় শীতকালীন সবজি চাষ হয়ে থাকে। গত বছর ফুলকপির বাম্পার ফলন হওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই আগাম জাতের ফুলকপি চাষে অধিক লাভবান হয়েছেন এ উপজেলার সবজি চাষিরা।
এবছর চাষীরা আগাম কিছুটা দাম পেলেও দেরিতে ফুলকপি চাষ করা কৃষকরা বেশী লাভবান হতে পারছেনা । শুরুতে প্রতি কেজি ফুলকপির খুচরা মূল্য ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা কিন্তু দেরিতে বাজারজাত করায় এখন প্রতি কেজি ১০ টাকা। এতে হতাশায় ভুগছে কৃষকরা। খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছে তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের হতদরিদ্র চাষী রইস উদ্দিন তার ১৫ শতক জমিতে আগাম জাতের হোয়াইট মাউণ্টেন (সাদাজাতের) ফুলকপির চাষ করেছেন। মাত্র ২ মাস আগে তিনি ফুলকপির চারা কিনে জমিতে লাগিয়েছিলেন। গত ২ সপ্তাহে তিনি ৫ মণ ফুলকপি বিক্রি করে ৮ হাজার টাকা পেয়েছেন। আগামী ২ সপ্তাহে ওই জমি থেকে তিনি আরও ১০ মন ফুলকপি বিক্রি করতে পারবেন। বর্তমানে প্রতি মণ ফুলকপি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই হিসেবে তিনি প্রায় ২ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করতে পারবেন। অপরদিকে চারা ক্রয়, জমি চাষ, জৈব সার প্রয়োগ, কীটনাশক প্রয়োগ, পানিসেচ, নিরানী বাবদ প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই থেকে আড়াই মাসে ফুলকপি থেকে তার নীট আয় হচ্ছে ৬ হাজার টাকা। প্রায় তিনমাসে ৬হাজার টাকা আয় দিয়ে চলেনা তাঁর ৫ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ। পরবর্তী ফসল চাষের মূলধন না থাকায় হতাশায় ভুগছেন তিনি।
ফুলকপি চাষি মকবুল হোসেন জানান, তার নিজস্ব জমি মাত্র ১৯ শতক। এর মধ্যে ১১ শতক জমিতে ফুল কপি চাষ করে তিনি প্রায় ৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। এরমধ্যে তার ফুলকপি চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার টাকা। কি করে পরবর্তী ফসল চাষ করবেন এই নিয়ে ভাবনায় পরেছেন। এই সামান্য জমিতে সারা বছর তিনি সবজি চাষ করেন। ১২ মাসের একটি সপ্তাহও তার জমি পতিত থাকেনা। উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করে ২ ছেলে, ১ মেয়ে, নাতী-নাতনীসহ তার ৮ সদস্যের সংসার চলে। নিজের জমির কাজ না থাকলে অবসরে তিনি অন্যের জমিতে দিন মজুর হিসেবে কাজ করেন। তিনি জানান, এ বছর তিনি সাদাজাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। এই কপি দ্রুত বাড়ে ও ওজন বেশি হয় এবং এর ফুলগুলো দেখতেও সুন্দর বলে বাজারে এই ফুলকপির চাহিদা রয়েছে অনেক কিন্তু দাম কম হওয়ায় হতাশ তিনি।
শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আকতার জানিয়েছেন, শেরপুরের সবজি চাষিরা জৈব সার ব্যবহারে ভাল ফলন পাচ্ছেন। অপরদিকে ভোক্তারা পাচ্ছেন বিষ মুক্ত নিরাপদ সবজি। যা স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ দুটোর জন্যই মঙ্গলজনক। যারা আগাম চাষ করেছিল তারা মোটামুটি ভাল লাভবান হয়েছে। কিন্তু এখন দাম পরে যাওয়ায় কৃষকরা হতাষার মধ্যে পরেছেন।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। © All rights reserved © 2020 ABCBanglaNews24
Theme By bogranewslive
themesba-lates1749691102