October 25, 2021, 2:40 pm
তাঁজাখবর
বাগমারায় এক গৃহবধূ নির্যাতনের শিকার বগুড়া সদরের লাহিড়ীপাড়ায় নিহত সিএনজি চালক জাহেরের দাফন শেষে সিএনজি চালকদের মানববন্ধন সাংবাদিক নাসির উদ্দীন বালীর মৃত্যুতে শোক সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত প্রয়াণ দিবসে কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে বগুড়ায় আলোচনা চৌহালীতে খাষপুকুরিয়ার ইউপি নির্বাচনে নৌকা’র প্রতীক প্রত্যাশী মাসুম সিকদার আদমদীঘিতে রক্তদহ বিলে অভিযানঃ ২ হাজার মিটার ভাদাই জাল জব্দ সান্তাহারে ট্রেন থেকে চোলাই মদসহ গ্রেপ্তার ১ কাজিপুরে আওয়ামীলীগের উদ্যোগে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল দক্ষিণ বঙ্গের রাজনৈতিক অভিভাবক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র হাত ধরে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নন্দীগ্রামে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার-৬

সামিয়ার বিদেশ ভ্রমণ, আরও কিছু কি আছে গোপন?

সংবাদদাতার নাম:
  • প্রকাশিত: সোমবার, মার্চ ১৫, ২০২১
  • 44 দেখা হয়েছে:

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

একাডেমিক গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির দায়ে সম্প্রতি পদাবনমনের সাজা পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমানের বিষয়ে আরও একটি গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এখনও নজরে আসেনি।

সামিয়া রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন (অনাপত্তি) না নিয়ে কমপক্ষে তিনবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। ২০১৭ ও ২০১৮ সালের ওই তিনটি অনুমোদনহীন ভ্রমণ নিয়ে তার বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির বৈঠকে আলোচনা হলেও বিষয়টি সাংবাদিকতা বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেনি। বরং বৈঠক থেকে সামিয়া রহমানের নাম উল্লেখ না করে সব শিক্ষকের উদ্দেশ্যে অভিন্ন সতর্কবার্তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দফতর ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সামিয়ার এই অনুমোদনহীন বিদেশ সফরের বিষয়ে অবগত নয় বলে জানা গেছে। যদিও সামিয়ার দাবি, একটি পক্ষ ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে’ তাকে বিপদে ফেলতে উঠেপড়ে লেগেছে।

সাম্প্রতিককালে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষককে চাকরিচ্যুতি ও পদাবনমনের সাজা পেতে হয়েছে। এমনকি এর চেয়ে কম অপরাধ করেও একাধিক শিক্ষককে পদাবনমনের সাজা ভোগ করতে হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামিয়া রহমান একাধিকবার অনুমোদন বা অনাপত্তি না নিয়ে বিদেশ সফর করলেও প্রশাসনিকভাবে তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দফতরে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, সেখানেও সামিয়ার বিদেশ সফরের কোনও অনাপত্তিপত্র নেই। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দফতরেও তা নেই।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সামাদ  বলেন, ‘বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে এনওসি (অনাপত্তি) নেয়া বাধ্যতামূলক। কেউ যদি এটি না নেয় তাহলে তার চাকরি চলে যাবে। এটি ‘ল অব দ্য স্টেট’।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সামিয়া রহমান ও ঢাবির অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানে যৌথভাবে লিখা ‘A New Dimension in Colonialism and Pop Culture: A Case Study of the Cultural Imperialism’ (অ্যা নিউ ডাইমেনশন ইন কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার: অ্যা কেস স্টাডি অব কালচারাল ইম্পেরিয়ালিজম) শীর্ষক ৮ পৃষ্ঠার একটি নিবন্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নিজস্ব জার্নাল সোস্যাল সায়েন্স রিভিউয়ে প্রকাশিত হয়। তখন অভিযোগ উঠে, ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ১৯৮২ সালে প্রকাশিত ‘The Subject and Power’ (দ্যা সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ শীর্ষক নিবন্ধ থেকে পাঁচ পৃষ্ঠার মতো হুবহু নকল করেছেন তারা। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানায় ওই গ্রন্থের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো। প্রেস। নিবন্ধটি ফুকো ছাড়াও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন চিন্তক এডওয়ার্ড সাঈদের ‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ গ্রন্থের পাতার পর পাতা হুবহু কপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।

অভিযোগ তদন্তে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) নাসরীন আহমাদকে প্রধান করে একটি কমিটি করে সিন্ডিকেট। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সামিয়া-মারজানের গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগটির সত্যতা মিলেছে। তবে কিমিটি কোনও শাস্তির সুপারিশ করেনি। সামিয়া-মারজানের শাস্তি নির্ধারণের জন্য ২০২০ সালের অক্টোবরের সিন্ডিকেট সভায় আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য মো. রহমত উল্লাহকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ইনক্রিমেন্ট কাটার মতো ‘লঘু শাস্তি’র সুপারিশ করলেও সিন্ডিকেট তা নাচক করে দেয়।

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি গণযোগাযোগ ও সংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়অ রহমানকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদাবনতি দিয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে তিনি পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। আর শাস্তি পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান এখন শিক্ষা ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে আছেন। ছুটি শেষে ফেরার পর তিনি পদোন্নতি পেয়ে যেতেন। কিন্তু সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভাগে যোগ দেয়ার পর তাকে আরও দু’বছর প্রভাষক পদে চাকরি করতে হবে।

এদিকে গত ০১ মার্চ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সামিয়া রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিহিংসা ও শিক্ষক রাজনীতির শিকার।

একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে হওয়া ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক এবং চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের কাছে আবেদন জানিয়ে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনেরও দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘শিকাগো জার্নালের যে চিঠির ভিত্তিতে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে দীর্ঘ ৪ বছর ধরে মিডিয়া ট্রায়াল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে শান্তির সুপারিশ করেছে, ডিমোশন দিয়েছে- সেই চিঠিটিই আদতে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভুয়া, বানোয়াট। শিকাগো জার্নাল থেকে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে এই ধরনের কোনো চিঠি, কোনও দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আজ পর্যন্ত পাঠানো হয়নি। অ্যালেক্স মার্টিন বলে শিকাগো জানালে কেউ কখনো কাজ করেনি। এমনকি শিকাগো ইউনিভার্সিটি এবং শিকাগো প্রেসেও অ্যালেক্স মারটিন বলে কেউ নেই। শিকাগো জার্নালের এডিটর ক্রেইগ ওয়াকার নিজে জানিয়েছেন অ্যালেক্স মার্টিন বলে কেউ কখনও শিকাগো জার্নালে কেউ ছিল না, কেউ নেই। চিঠিটি যে সম্পূর্ণ বানোয়াট, তৈরি করা বা মিথ্যা- চিঠিটির বিভিন্ন অংশ পড়লেই দেখতে পাবেন।’

চার বছর চুপ থাকা প্রসঙ্গে সামিয়া রহমান বলেন, ‘গত ৪ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের হুমকি ধামকির চাপে ও তদন্তাধীন বিষয় বলে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম। তার সুযোগে ষড়যন্ত্রকারীরা দিনের পর দিন প্রপাগাণ্ডা চালিয়েছে আমার বিরুদ্ধে। অবশ্যই বাংলাদেশের আদালতের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখে আদালতেই যাচ্ছি। যে লেখাটি আমি লিখিনি, জমা দেইনি, (আইডিয়া দেয়া আর গবেষণা এক বিষয় নয়) ডিন অফিসে আমার কাছ থেকে লেখার কোনও হার্ড বা সফট কপি জমা দেবার কোনও প্রমাণ তদন্ত কমিটি, ট্রাইব্যনাল পর্যন্ত পায়নি, রিভিউয়ারের কপিও আমার কাছে আসেনি। মারজান তদন্ত কমিটির কাছে যেখানে লিখিতভাবে স্বীকার করেছে যে, সে জমা দিয়েছে, রিভিউয়ারের কপিও সেই নিয়েছিল এবং এটি তার অনিচ্ছাকৃত ভুল, অথচ তদন্ত কমিটি বলছে দালিলিক প্রমাণ নাকি অস্পষ্ট কে জমা দিয়েছে! মারজান নিজে তদন্ত কমিটির কাছে জমা দেয়া ও রিভিউ করার কথা লিখিতভাবে বলার পরও কেন দালিলিক প্রমাণ অস্পষ্ট বলে তদন্ত কমিটি? এ সংক্রান্ত প্রমাণস্বরূপ মারজানকে দেয়া আমার মেইল পর্যন্ত তদন্ত কমিটির কাছে জমা দেয়া হয়েছিল। তদন্ত কমিটি সেক্ষেত্রেও নিশ্চুপ থেকেছে। কারণ উদ্দেশ্য আমাকে শাস্তি দেয়া।’

সি/বি/বিিএন

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। © All rights reserved © 2020 ABCBanglaNews24
Theme By bogranewslive
themesba-lates1749691102